গাইবান্ধার আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলামকে একটি মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। রোববার (১২ জুলাই) রাতে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, হরিদাস একসময় রাজধানীর উত্তরায় ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। পাশাপাশি পুরোনো এসি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি, বদলি ও পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
র্যাব জানিয়েছিল, ২০১৪ সাল থেকে তিনি এই পরিচয় ব্যবহার করে শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে ২০২২ সালের নভেম্বরে এক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তৎকালীন র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় প্রায় এক বিঘা জমি কিনে ‘প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট পার্ক’ নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ শুরু করেন। পরে ২০২১ সালে সেটি চালু করা হয়।
র্যাবের তদন্তে আরও উঠে আসে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশে যান। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে ইলেকট্রনিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ২০১০ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং উত্তরায় পুরোনো এসি মেরামত ও বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে বিয়ে করেন। এরপর শ্বশুরের পরিচয়ে জমি ক্রয় এবং নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার, দামি পোশাক পরিধান এবং রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে উচ্চপর্যায়ের ক্ষমতাবান ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা রয়েছে বলেও প্রচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ সিআইডি তাকে একটি মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।