জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জুলাই কেবল একটি গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, এটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অসংখ্য পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষকদের ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণ সহায়তা, উচ্চশিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ইউজিসি সদস্য বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষায় বৈষম্য কমাতে সরকার কাজ করছে। উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার এবং দেশের আট বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু চাকরিপ্রত্যাশী নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিলে সেখানে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন।
আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।