গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকেও মানা হবে না: ডা. শফিকুর রহমান
সবশেষ আপডেট :
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
৩৮
জন সংবাদটি দেখেছেন
গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারকেও জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, সেই একই ভোটের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার নিজেদের বৈধতা দাবি করছে। কিন্তু জনগণের সেই রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “গণভোটের রায় যদি অকার্যকর করা হয়, তাহলে সরকারকেও জনগণ মেনে নেবে না। গণভোট না থাকলে এই সরকারেরও ভিত্তি থাকত না। তাই জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। অন্যথায় জনগণই সরকারকে সেই রায় মানতে বাধ্য করবে।”
ক্ষমতাসীন বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ১৯৯১ সালের পর ক্ষমতায় এসে তারা কেয়ারটেকার সরকারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পারেনি। পরে সেই প্রয়োজনীয়তা তারা বুঝেছে। তিনি বলেন, “জাতির ক্ষতি না করে এখনই বাস্তবতা উপলব্ধি করুন।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমরা রাজপথে থাকতে চাই না। আমরা সবাই মিলে দেশ গড়তে চাই। কিন্তু সরকার যেভাবে বিরোধী দলগুলোকে রাজপথে নামতে বাধ্য করছে, তাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।”
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে দেশকে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন আরও বেগবান হবে, প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থানের পথেও যেতে পারে জনগণ।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনগণ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জনদুর্ভোগ, বেকারত্ব এবং উন্নয়ন বৈষম্যের কারণে মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও তারা দাবি করেন।
এ সময় জুলাই আন্দোলন ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ডা. মাহমুদা মিতু, এমপি জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার ফুয়াদ এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
দুপুর থেকেই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের সড়ক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়।