মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

স্ত্রীর ভালোবাসার লিভারে নতুন জীবন পেলেন স্বামী আলম নুরী

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২০৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

রাজশাহীর খাদিজা খাতুন নিজের লিভারের ৬৪ শতাংশ দান করে মৃত্যুপথযাত্রী স্বামী মোহাম্মদ আলম নুরীকে নতুন জীবন দিয়েছেন। দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে এই লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সাবেক শিক্ষক খাদিজা খাতুন এবং তাঁর স্বামী আলম নুরী পেশাগত জীবনে দুইজনই উচ্চশিক্ষিত। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হেপাটাইটিস–বি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন আলম নুরী। চিকিৎসকদের পরামর্শে একমাত্র সমাধান হিসেবে লিভার প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

তবে দেশে এই চিকিৎসা না থাকায় প্রয়োজন হয় বিদেশে যাওয়ার। চিকিৎসার বিপুল ব্যয়, ভিসা জটিলতা এবং সময়ক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে এক বছরের কঠিন পথ পাড়ি দেন এই দম্পতি। অবশেষে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ভারতে ডা. সুভাষ গুপ্তার নেতৃত্বে ১৩ ঘণ্টাব্যাপী সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খাদিজার লিভারের একটি অংশ আলম নুরীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর আলম নুরী জানান, “এই জীবন এখন আমার নয়, আমার ভেতরের কলিজাটিও আমার স্ত্রীর। স্ত্রী ও অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ছাড়া আমি হয়তো বেঁচে ফিরতাম না।”

অন্যদিকে খাদিজা খাতুন বলেন, “এটা কোনো দয়ার দান নয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি শুধু উনার বেঁচে থাকার উসিলা হতে পেরেছি। স্বামীর সাহস আর বিশ্বাস আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছে।”

তাঁদের দুই সন্তান—আরিয়ান (৮) ও আদনান (৬)—এখন মিরপুরে বাবা–মায়ের সান্নিধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চিকিৎসার পর আলম নুরীকে আজীবন নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন ও বিশেষ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। প্রতি মাসে চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

খাদিজা বলেন, “এই যাত্রা একা সম্ভব ছিল না। অসংখ্য বন্ধু, আত্মীয়, শুভানুধ্যায়ী, চিকিৎসক ও শুভকামনাকারীর সহযোগিতায় আমরা এই লড়াইয়ে জিতেছি।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com