সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

স্ত্রীর ভালোবাসার লিভারে নতুন জীবন পেলেন স্বামী আলম নুরী

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২৭ জন সংবাদটি দেখেছেন

রাজশাহীর খাদিজা খাতুন নিজের লিভারের ৬৪ শতাংশ দান করে মৃত্যুপথযাত্রী স্বামী মোহাম্মদ আলম নুরীকে নতুন জীবন দিয়েছেন। দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে এই লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সাবেক শিক্ষক খাদিজা খাতুন এবং তাঁর স্বামী আলম নুরী পেশাগত জীবনে দুইজনই উচ্চশিক্ষিত। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হেপাটাইটিস–বি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন আলম নুরী। চিকিৎসকদের পরামর্শে একমাত্র সমাধান হিসেবে লিভার প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।

তবে দেশে এই চিকিৎসা না থাকায় প্রয়োজন হয় বিদেশে যাওয়ার। চিকিৎসার বিপুল ব্যয়, ভিসা জটিলতা এবং সময়ক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে এক বছরের কঠিন পথ পাড়ি দেন এই দম্পতি। অবশেষে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ভারতে ডা. সুভাষ গুপ্তার নেতৃত্বে ১৩ ঘণ্টাব্যাপী সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খাদিজার লিভারের একটি অংশ আলম নুরীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর আলম নুরী জানান, “এই জীবন এখন আমার নয়, আমার ভেতরের কলিজাটিও আমার স্ত্রীর। স্ত্রী ও অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ছাড়া আমি হয়তো বেঁচে ফিরতাম না।”

অন্যদিকে খাদিজা খাতুন বলেন, “এটা কোনো দয়ার দান নয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আমি শুধু উনার বেঁচে থাকার উসিলা হতে পেরেছি। স্বামীর সাহস আর বিশ্বাস আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছে।”

তাঁদের দুই সন্তান—আরিয়ান (৮) ও আদনান (৬)—এখন মিরপুরে বাবা–মায়ের সান্নিধ্যে দিন কাটাচ্ছে। চিকিৎসার পর আলম নুরীকে আজীবন নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন ও বিশেষ খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। প্রতি মাসে চিকিৎসা ও ওষুধ বাবদ ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

খাদিজা বলেন, “এই যাত্রা একা সম্ভব ছিল না। অসংখ্য বন্ধু, আত্মীয়, শুভানুধ্যায়ী, চিকিৎসক ও শুভকামনাকারীর সহযোগিতায় আমরা এই লড়াইয়ে জিতেছি।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com