রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলটির মনোনয়নে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রও জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি খুব শিগগিরই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।
বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা আগের মতো নেই। ওপেন হার্ট সার্জারির পর তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী বলে জানা গেছে।
আরেকটি সূত্রের দাবি, আগামী ২৫ জুলাইয়ের আগেই পদত্যাগপত্রে সই করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছুটা সময় লাগলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। একই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে সিঙ্গাপুরে ওপেন হার্ট সার্জারি এবং পরে যুক্তরাজ্যে হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রপতি।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আরও জোরালো হয় প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপি সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে এসব বিষয়ে এখনো সরকার, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম বা সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।