জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তবে উপজেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের খবর সম্পূর্ণ গুজব।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোকমুখে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ বা সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এ ভিড় শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাতভর ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। অনেক চালক গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করার পাশাপাশি জারিকেন ও বোতলেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি চাপ সৃষ্টি হয় এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
তেল নিতে আসা কয়েকজন চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে সম্ভাব্য সংকটের খবর শুনে তারা দ্রুত ফিলিং স্টেশনে ছুটে আসেন। পরে তারা বুঝতে পারেন, বাস্তবে কোথাও জ্বালানি তেলের সংকট নেই। গুজবের কারণেই অস্বাভাবিক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি তেল মজুত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মেসার্স আফতাব ফিলিং স্টেশন, মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স তিস্তা ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ হচ্ছে। সরবরাহ বন্ধ বা কমে যাওয়ার বিষয়ে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি। গুজবের কারণেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গ্রাহক ভিড় করছেন।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল কিনবেন না বা মজুত করবেন না। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারের কাছে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সংকটের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”