সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক ওয়ার্ড নেতা দলীয় পদ ও সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো সংগঠনের কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্ব।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে তার ওই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
স্ট্যাটাসে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী দাবি করেন, সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সবসময় ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তার ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই তার বিবৃতিতে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নামের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না; মানুষের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারিত হয় তার কর্ম ও চরিত্রের মাধ্যমে।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বক্তব্য বা আচরণের মাধ্যমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান এবং সবার কাছে দোয়া চান।
এ বিষয়ে মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি বলেন, ৫ আগস্টের পর খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তিনি দুই থেকে তিন মাস সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। পরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধ এবং প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা আদায়ের বিষয় ছিল। এসব কারণে তিনি ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে দূরে সরে গেছেন বলে তাদের ধারণা।
তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি জানান, খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী এখন পর্যন্ত সংগঠনের কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে ফেসবুকে দেওয়া এই পদত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মহিপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।