কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই তাকে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আরও একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর ও কামরুল হাসান। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়।
পরদিন অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন জানায়, অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে কামরুল হাসানকেও হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
তুহিনের দেখানো স্থান অনুযায়ী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে অন্যরা বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।
এরপর অপ্রতিমের মোবাইল ফোন নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিনজনকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।