দিল্লির লাল কেল্লার কাছে একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নয়জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ভারতজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী জানিয়েছেন, একটি হুন্ডাই আই–২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। গাড়িটিতে তিনজন ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বিস্ফোরণের শব্দ এত জোরে ছিল যে আমার ঘরের জানালা কেঁপে উঠেছিল। মুহূর্তেই চারদিকে ধোঁয়া আর চিৎকারের শব্দ।”
আরেকজন দোকানদার ওয়ালিউর রহমান জানান, “বিস্ফোরণের সময় দোকানে ছিলাম। এত শক্তিশালী শব্দে তিনবার মাটিতে পড়ে যাই। আশপাশের সবাই তখন দৌড়ে পালাচ্ছিল।”
একজন অটোরিকশা চালক জিশান বলেন, “আমার সামনেই গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছয়-সাতটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।”
অ্যাম্বুলেন্স চালক মুহাম্মদ আসাদ জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, “চারপাশে জ্বলন্ত গাড়ি আর আহত মানুষ পড়ে আছে।”
ঘটনার পরপরই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG) এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) যৌথভাবে বিস্ফোরণের তদন্ত করছে।
অমিত শাহ বলেন, “আমরা সব দিকই খতিয়ে দেখছি। বিস্তারিত তদন্ত হবে এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”
বিস্ফোরণের পর কলকাতা, মুম্বাই, হায়দরাবাদ ও চেন্নাইসহ বড় শহরগুলোতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এছাড়া ভারতের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাস দিল্লিতে সতর্কতা জারি করে তাদের নাগরিকদের লাল কেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকায় না যেতে পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩,০০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এতে দুই চিকিৎসকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজধর পাণ্ডে বলেন, “আমি ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ আগুনের গোলা আকাশে উঠতে দেখি। মনে হচ্ছিল, আগুন যেন সব গিলে ফেলবে।”