আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া একটি নবজাতক হাতির শাবককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেছেন পাঁচ জেলে। প্রায় চার কিলোমিটার ভেসে যাওয়া শাবকটিকে নৌকায় তুলে তীরে আনার পর বন বিভাগের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মায়ের কাছেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জলপাইগুড়ির গজলডোবা তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার বরাতে জানা গেছে, গজলডোবা তিস্তা ব্যারাজের উজানে পাঁচটি হাতির একটি পাল নদী পার হচ্ছিল। এ সময় প্রবল স্রোতে নবজাতক শাবকটি দলছুট হয়ে যায়। স্রোতের টানে প্রায় চার কিলোমিটার ভেসে সেটি তিস্তার ১২ নম্বর স্পারের কাছে পৌঁছায়।
নদীতে মাছ ধরার সময় পাঁচ জেলে শাবকটিকে স্রোতের মধ্যে ভেসে থাকতে দেখেন। ছোট একটি নৌকা নিয়ে তাঁরা দ্রুত শাবকটির কাছে পৌঁছান।
ততক্ষণে শাবকটি শ্বাস নিতে হিমশিম খাচ্ছিল। পানির ওপর শুঁড় উঁচিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিল সেটি।
পরিস্থিতি দেখে তিন জেলে নদীতে ঝাঁপ দেন। অনেক চেষ্টার পর শাবকটিকে নৌকায় তুলে নিতে সক্ষম হন তাঁরা। এরপর প্রবল স্রোতের বিপরীতে নৌকাটি তীরে ফেরানোও ছিল কঠিন। তিনজন নৌকার পাশে সাঁতরে সেটিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
অবশেষে শাবকটিকে নিরাপদে তীরে আনা হয়।
উদ্ধারের পর হাতির শাবকটিকে বন বিভাগের কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কাঠামবাড়ি রেঞ্জ অফিসে নিয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরপর শুরু হয় শাবকটির মাকে খুঁজে বের করার অভিযান। বন বিভাগের কর্মীরা শাবকটিকে তিস্তা ব্যারাজ পার করে নদীর একটি শুকনো অংশে নিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছিল, হাতির পালটি ওই এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর বনকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শাবকটির সঙ্গে তার মায়ের পুনর্মিলন ঘটে।
মা হাতিটি শাবকের কাছে এসে তাকে গ্রহণ করে। পরে শাবকটিকে মায়ের দুধ পান করতেও দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শাবকটিকে সময়মতো উদ্ধার করায় পাঁচ জেলের সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হাতির শাবক দীর্ঘ সময় মানুষের সংস্পর্শে থাকলে কখনো কখনো মা হাতি বা পাল সেটিকে পুনরায় গ্রহণ করতে চায় না। এ কারণে দ্রুত শাবকটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
তিস্তার প্রবল স্রোতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঁচ জেলের এই উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যন্ত শাবকটির প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মায়ের কাছেও।