রংপুরের পীরগাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের জমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্থানীয় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ দেখা যায়।
শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করেন। সে সময় বাড়িতে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে মানবিক বিবেচনায় বিদ্যালয়ের প্রায় চার শতক জমি ব্যবহার করে চলাচলের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়।
এরপর থেকে আব্দুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই পথ ব্যবহার করে আসছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এতদিন তাদের চলাচলে কোনো বাধা দেয়নি।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি আব্দুর রহমানের ছেলে রওশন আলম ওই পথের প্রবেশমুখে আরসিসি ঢালাই দিয়ে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং স্টিলের গেট বসানোর কাজ শুরু করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ সরদার নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বললেও তা উপেক্ষা করা হয়। এমনকি তাকে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে অভিযুক্ত রওশন আলমের বোন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের স্কুলের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।”
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রওশন আলম। তিনি বলেন, “আমরা ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি এবং জমিটি ভোগদখল করে আসছি। এ বিষয়ে আমাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, “এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। আমি শুধু স্কুলের জমি বেদখল হওয়া থেকে রক্ষার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মুজাক্কিন বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালনের আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারত। তবে এখন অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”