রোববার দিল্লি সরকার জানায়, ‘দুর্গা ই-অটো’ প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ করা অটোরিকশাগুলোকে অ্যাপভিত্তিক যাতায়াত সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে বিভিন্ন রাইড-হেইলিং কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচিত নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের চালকদের নিবন্ধন বা সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফের অনুরোধ জানানো হবে। কোম্পানিগুলো সম্মত হলে যাত্রীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এসব অটোরিকশা ভাড়া করতে পারবেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের নেতৃত্বে দিল্লির মন্ত্রিসভা প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।
প্রথম পর্যায়ে বরাদ্দ করা ১ হাজার ৩০০টি অটোরিকশার মধ্যে ১ হাজার ১৭০টি নারীদের এবং ১৩০টি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা এসব অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন এবং নিজেরাই চালিয়ে আয় করতে পারবেন।
দিল্লির ১৩টি রাজস্ব জেলায় অটোরিকশাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতিটি জেলায় সর্বোচ্চ ৯০টি অটোরিকশা নারীদের এবং ১০টি তৃতীয় লিঙ্গের আবেদনকারীদের জন্য রাখা হবে।
দিল্লির পরিবহনমন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং বলেন, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন খাতে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
জাতীয় তথ্যবিজ্ঞান কেন্দ্রের (এনআইসি) তৈরি বিশেষ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আবেদন যাচাই করবে। এ জন্য প্রতি সপ্তাহে যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোনো জেলায় যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা বরাদ্দ করা অটোরিকশার চেয়ে বেশি হলে অনলাইন লটারির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত ব্যক্তিদের দেওয়া হবে আগ্রহপত্র। পাশাপাশি নিবন্ধিত মালিকদের পরিচয়পত্র এবং ‘দুর্গা’ লেখা জ্যাকেট ও টুপি দেওয়া হবে।
দিল্লির ২০২৬ সালের বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি অনুযায়ী, প্রথম বছরে নিবন্ধিত যোগ্য বৈদ্যুতিক অটোরিকশা কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক চালককে অটোরিকশা কিনতে শেষ পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় করতে হবে, তা সরকার এখনো জানায়নি।
এর আগে ২০২২ সালে দিল্লিতে নারীদের জন্য ১ হাজার ৪০৬টি বৈদ্যুতিক অটোরিকশার অনুমতি সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে প্রথম দফায় আবেদন করেছিলেন মাত্র ৭৪৩ জন। ফলে পরে আবারও আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হয়।
নতুন প্রকল্প চালুর পর উপকারভোগীদের আয় ও জীবিকার ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে দুই ধাপে গবেষণার পরিকল্পনাও করেছে দিল্লি সরকার।
সূত্র: এনডিটিভি