বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের ধরন নানান—দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক কিংবা ত্রৈমাসিক। কিন্তু এমন কোনো পত্রিকা কি ভাবা যায়, যা চার বছরে মাত্র একবার প্রকাশিত হয়? অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত রম্যধর্মী পত্রিকা ‘লা বুজি দি স্যাপর’ ঠিক এমনই একটি ব্যতিক্রমী নিউজপেপার, যার নতুন সংখ্যা বের হয় কেবল ২৯ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ লিপ ডেতে।
১৯৮০ সালে প্যারিস থেকে পলিটেকনিশিয়ান জ্যাক ডি বুইসন এবং প্রেস বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান বেলির হাত ধরে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু। চার দশকের বেশি সময়ে এর সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে মাত্র ১২টি।
নামের উৎসও ব্যতিক্রম—উনিশ শতকের ফরাসি কার্টুনিস্ট স্যাপার ক্যামেম্বারকে অনুসরণ করে রাখা হয় ‘দ্য সাপার’স ক্যান্ডেল’ অর্থবোধক এই নাম।
২০ পৃষ্ঠার ট্যাবলয়েডটির দাম ৪.৯০ ইউরো (৪.২০ ডলার)—যা নিজেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এবং বিরল সংবাদপত্র হিসেবে আলাদা করে। বর্তমানে এর প্রচারসংখ্যা প্রায় ২ লাখ।
প্রথম সংখ্যার ক্ষেত্রে মাত্র দুই দিনেই সব কপি বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর যখন হকাররা আরও সংখ্যা চেয়েছিল, তখন সম্পাদক জিন ডি ইন্ডি রসিকতা করে বলেছিলেন—
“ঠিক আছে, তবে অপেক্ষা করতে হবে চার বছর!”
রম্যধর্মী পত্রিকা হলেও এর বিন্যাস সাধারণ সংবাদপত্রের মতোই— রাজনীতি, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, ধাঁধা, তারকাদের আলাপ। সবই থাকে; তবে সব প্রতিবেদনে থাকে কৌতুকপূর্ণ পরিবেশন। সম্পাদকদের ভাষায়, এটি ‘অ্যান্টি-পলিটিক্যালি কারেক্ট’ এক পত্রিকা—যা ব্যঙ্গ করে, তবে কাউকে অপমান করার জন্য নয়।
২০২৪ সংস্করণের প্রথম পাতার প্রধান শিরোনাম— “সকলেই আমরা বুদ্ধিমান হবো” এতে আলোচিত হয়েছে—এআই প্রযুক্তি কীভাবে পরীক্ষাব্যবস্থা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমাপকে বদলে দিচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রধান প্রতিবেদন— “নারী হওয়ার আগে পুরুষের যা জানা দরকার” এতে লিঙ্গ রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নারীতে রূপান্তরিত ব্যক্তিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
এ পত্রিকা কোনো ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করে না। শুধুমাত্র ফ্রান্সের নিউজ স্ট্যান্ড, হকার এবং পত্রিকা বিক্রির বুথগুলোতেই এটি বিক্রি হয়। অন্য কোনো ভাষায় এর অনুবাদও প্রকাশিত হয় না।
পত্রিকার সম্পাদক ডি ইন্ডি বলেন— “আমরা মজা করি, কিন্তু কাউকে আঘাত করি না। আমাদের লক্ষ্য কৌতুক, নিষ্ঠুরতা নয়।”
সূত্র : বিবিসি