বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ ও চলমান প্রকল্প বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর রংপুরে আধাবেলা হরতালের ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রংপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন বাবলু।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের নেতারা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ এবং এ-সংক্রান্ত চলমান প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।
পাশাপাশি নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে প্রিপেইড মিটার দেওয়া বন্ধ, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম দূর করা এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধের দাবিও তুলে ধরেন তাঁরা।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে রংপুরের বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
গত ২০ আগস্ট ‘শুদ্ধ রংপুর’ নামে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে নেসকোকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
তবে এসব কর্মসূচির পরও প্রিপেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফোরামের নেতারা।
তাঁদের দাবি, গ্রাহকদের আপত্তি ও আন্দোলনকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের কথাও তুলে ধরা হয়।
ফোরামের নেতাদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পর কিছু গ্রাহকের বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
আগে যেসব গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল কয়েক হাজার টাকার মধ্যে থাকত, তাঁদের কারও কারও ক্ষেত্রে মিটার পরিবর্তনের পর বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া প্রিপেইড মিটার নিতে অনিচ্ছুক গ্রাহকদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেন সংগঠনটির নেতারা।
তবে মিটার পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ ব্যয় বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীন কারিগরি যাচাইয়ের তথ্য সংবাদ সম্মেলনের বিবরণে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সীমিত আয়ের মানুষ এমনিতেই আর্থিক চাপে রয়েছেন।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং, ভুল বিল ও গ্রাহক হয়রানির সমস্যাও রয়েছে।
এসব সমস্যার সমাধান না হলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা জানান, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩০ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুরে আধাবেলা হরতাল পালন করা হবে।
কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তাঁরা।
দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম রংপুরের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মির্জা বাবর বাবুল, নূরপুর অঞ্চল কমিটির সদস্যসচিব শান্ত মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সোহেল এবং সদস্য মো. আজম, শাহিদুল ইসলাম সুমন ও সাজু বাসফোর।
এদিকে প্রিপেইড মিটার স্থাপন, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে নেসকো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।