ইডেন গার্ডেন্সে প্রস্তুতকৃত স্পিনবান্ধব ও অস্বাভাবিক আচরণকারী উইকেটই শেষ পর্যন্ত নিজেদের জন্য ‘বুমেরাং’ হলো ভারতের। সিরিজের প্রথম টেস্টে মাত্র তিন দিনেই লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হলো রিশভ পন্থের দল। ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্যও তারা ছুঁতে পারল না—গুটিয়ে গেল মাত্র ৯৩ রানে।
শুভমান গিল ঘাড়ে ব্যথার কারণে না খেলায় ভারত এক ব্যাটার কম নিয়ে মাঠে নামে। সেই ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে সূচনাতেই। মার্কো ইয়ানসেনের অতিরিক্ত বাউন্সে প্রথমে ইয়াশাসবি জয়সওয়াল শূন্য রানে বিদায় নেন; পরে মাত্র এক রানে ফেরেন লোকেশ রাহুল। স্কোরবোর্ডে তখন ভারতের রান মাত্র ২/২। ওয়াশিংটন সুন্দার এবং ধ্রুব জুরেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বিরতির পর আবারও ভেঙে পড়ে ব্যাটিং লাইন। সহজ বল লং অফে তুলে দিয়ে জুরেল দলকে বড় বিপদে ফেলেন।
রিশভ পন্থও থিতু হতে পারেননি। ১৩ বলে ২ রান করে সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে আউট হন তিনি। রবীন্দ্র জাদেজা ২৬ বলে ১৮ রান করে সামান্য লড়াই করলেও তাকেও ফেরান হারমার। ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে চারজনের উইকেট নেন এই প্রোটিয়া স্পিনার।
সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস খেলেছেন ওয়াশিংটন সুন্দার—৯২ বলে ৩১ রান। তবে তিনিও থামেন মার্করামের অফস্পিনে। শেষ দিকে কেশব মহারাজ দ্রুত অক্ষর প্যাটেল ও মোহাম্মদ সিরাজকে আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় নিশ্চিত করেন।
এর আগে কঠিন উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে তোলে ১৫৩ রান। টেম্বা বাভুমা খেলেন অনবদ্য ৫৫ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস; করবিন বোশের ২৫ রান লিডকে নিয়ে যায় ১০০ রানের ওপরে।
ভারতের হয়ে জাদেজা ৪ উইকেট, কুলদীপ ২টি, বুমরাহ ও সিরাজ ১টি করে নেন।
ম্যাচশেষে সমালোচনা ওঠে রিশভ পন্থের সিদ্ধান্ত নিয়ে। প্রথম ইনিংসে ক্লাব হাউস এন্ড থেকে বুমরাহ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ইনিংসে সেই দিক থেকে তাকে ব্যবহার করা হয়নি—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
দ্বিতীয় দিনের শেষে অক্ষর প্যাটেল বলেছিলেন, “এমন উইকেটে কোনো ব্যাটারই নিরাপদ নয়।” ভারত বোলিংয়ে কাজটি করলেও ব্যাটাররা সেই চাপ সামলাতে পারেননি—তারই ফল এই তিন দিনের লজ্জাজনক হার।