আন্তর্জাতিক ডেস্ক | চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই রায় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোড়ন তুলেছে। বিশ্বের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বিষয়টিকে প্রধান খবর হিসেবে প্রচার করছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে— “বিক্ষোভকারীদের ওপর বর্বর দমন-নিপীড়ন চালানোয় সাবেক বাংলাদেশি নেত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
সংস্থাটি রায়ের খবর সরাসরি সম্প্রচারও করছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা লিখেছে—
“মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে জানায়— “বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।”
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু তাদের শিরোনামে বলেছে— “মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।”
ভারতের প্রায় সব শীর্ষ সংবাদপোর্টাল— এনডিটিভি (NDTV) শিরোনাম করেছে “মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড।” ইন্ডিয়া টুডে (India Today) লিখেছে “শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড; সাবেক পুলিশ প্রধান মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেলেন।”
ভারতীয় মূলধারার অন্যান্য টিভি চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও এই রায়কে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে— ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা এবং রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে ছিল। তাই এই রায় শুধু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।