রংপুরের ছয়টি আসনের মতো রংপুর–৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনেও কয়েক সপ্তাহ ধরে সরগরম নির্বাচনী প্রচারণা। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা ও জামায়াত–এনসিপির আগাম কর্মতৎপরতায় আসনটি এখন তিন দলের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র।
এ আসনে আলোচনা মূলত তিনজনকে ঘিরে—
জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী—পীরগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব—নীরবে প্রচারণা চালালেও মূল লড়াই যে এই তিনজনের মধ্যে, তা এখন পরিষ্কার।
১৯৭৯ সালে শিল্পপতি রহিম উদ্দিন ভরসা এ আসনে বিএনপিকে প্রথম ও একমাত্র জয় এনে দেন। দীর্ঘ চার দশক পর তার ছেলে এমদাদুল হক ভরসাকে ঘিরে আবারো উচ্ছ্বসিত দলটি।
বিএনপি–সমর্থকদের বিশ্বাস, এবার জনগণের সাড়া ও পারিবারিক জনপ্রিয়তা মিলিয়ে ধানের শীষে ‘হারানো আসন পুনরুদ্ধারের সুযোগ’ তৈরি হয়েছে।
ভরসার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—
ভরসা বলেন, “জনগণের ভোটে সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ উন্নয়ন ও চরাঞ্চলের সমস্যা সমাধানে কাজ করব।”
তবে সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য—এনসিপির প্রার্থীকে না চিনে ফেলা বা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ‘সুরক্ষা’ দেওয়ার মন্তব্য—এলাকায় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর সুযোগ নিতে মাঠে প্রস্তুত জামায়াত–এনসিপি।
জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসে রংপুর–৪ এ সুযোগ দেখতে পাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের প্রার্থী এটিএম আজম খান, অভিজ্ঞ ও পরিচিত রাজনীতিক।
তার অগ্রাধিকার—
আজম খান বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। কথা–কাজের মিল দেখতে চায়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ জামায়াতকে সমর্থন দেবে।”
এ আসনে এবার ভোটার বেড়েছে প্রায় ৪৭ হাজার। এর বড় অংশই তরুণ। এই জায়গাটিই এনসিপির প্রধান শক্তি।
দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, জুলাই আন্দোলনের মুখ—নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।
আখতারের অঙ্গীকার—
তিনি বলেন, “নিয়ম–নীতির স্বচ্ছতা ও নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।”
বাম দলগুলো এখনো তৎপরতা শুরু করেনি।
রংপুর–৪, জাতীয় সংসদের ২২ নম্বর আসন, গঠিত—
ভোটার—
রংপুর–৪ এখন এমন এক আসন— যেখানে বিএনপি পুরনো আধিপত্য ফেরাতে মরিয়া, জামায়াত সুষ্ঠু নির্বাচনে ‘চমক’ দেখানোর অপেক্ষায়, এবং এনসিপি তরুণদের চাহিদাকে পুঁজি করে বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে আসতে চায়। এই তিনমুখী লড়াই শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য বদলায়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।