বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদের ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় তফসিল প্রকাশ হলেও, সকাল থেকে তফসিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান—শীতকালীন ছুটির মধ্যে ভোট আয়োজন ও দাবি অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন না হওয়ায় তারা এই তফসিল মানছেন না।
তফসিল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা যায়।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “এই তফসিল হঠকারিতার মাধ্যমে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। শীতকালীন ছুটিতে নির্বাচন দেওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা।” তিনি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভোট আয়োজনের দাবি জানান।
ইইই (ট্রিপলি) বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, “নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তারিখ বাস্তবসম্মত নয়। ছুটির আগেই এটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমাদুল হক আলবীর বলেন, “এভাবে নির্বাচন করলে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচির সঙ্গে সংঘর্ষও তৈরি হবে।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “এই তফসিলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়নি। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সুবিধা করতে চাইছে।”
নির্বাচন কমিশনার মো. মাসুদ রানা জানান, আগে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শীতকালীন ছুটির বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রয়োজনে ডিসেম্বরের ছুটি পিছিয়ে জানুয়ারিতে নেওয়া হতে পারে।”