বাংলাদেশব্যাপী আবারও কেঁপে উঠেছে। মাত্র ঘন্টাকয়েক আগেই নরসিংদীর ঘোড়াশালে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণহানিও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি বড় বিপর্যয়ের আগাম সংকেত। কারণ, দেশের পূর্বাঞ্চলজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শক্তি ৮ থেকে ৯ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে যেকোনো সময়।
হঠাৎ কেঁপে ওঠা মাটি, দুলতে থাকা ভবন, আর মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া জীবন… বাংলাদেশ যেন দাঁড়িয়ে আছে এক অদৃশ্য বিস্ফোরণের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নিচে জমে আছে এমন ভয়ংকর শক্তি, যা ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নরসিংদীর ঘোড়াশালে ৫.৫–৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলো। কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে ধসে পড়ে দেয়াল, ঝুলন্ত সাইনবোর্ড, রেলিং—এতে প্রাণ হারায় অন্তত ৩ থেকে ৬ জন। আহত হন অনেকে। একই কম্পন অনুভূত হয় আসাম থেকে কলকাতায় পর্যন্ত।
তবে এই কম্পনই বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। কারণ সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মা প্লেটের মিলনস্থল ‘লকড জোনে’ দীর্ঘদিন ধরে জমছে বিপুল শক্তি। এই অঞ্চলে ভূকম্পন না হওয়া মানেই—শক্তি বাড়ছে, ঝুঁকি বাড়ছে।
কোলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ও বাংলাদেশ ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে—এই জমে থাকা শক্তি হঠাৎ বিকট ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে। মাত্র ৩০–৫০ সেকেন্ডের একটি কম্পনেই ভেঙে পড়তে পারে হাজার হাজার ভবন—বিশেষত ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
সরকারি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যে দেখা যায়—গত ৬ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২টিরও বেশি হালকা ভূকম্পন নথিভুক্ত হয়েছে। বেশিরভাগই ছিল ৪ থেকে ৫ মাত্রার। অথচ ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ‘ঘনঘন ছোট কম্পন’ আসলে বড় ভূমিকম্পের পূর্বরূপও হতে পারে।
অন্যদিকে, রাজধানীর ভবনগুলোর বড় অংশই এখনও ভূমিকম্প সহনীয় নয়। সিটি করপোরেশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়—ঢাকার প্রায় ৭০% ভবনই অনুমোদনহীন বা নকশাবহির্ভূত। উদ্ধার সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত টিম ও মহড়া—সবই এখনও সীমিত।
তবে আশা আছে। প্রস্তুতি নেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—পুরনো ভবন পুনর্নির্মাণ, বাধ্যতামূলক ভূমিকম্প কোড, দ্রুত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি—এসব উদ্যোগ নিলে জীবন রক্ষা সম্ভব।
বাংলাদেশ যে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে—তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ঝুঁকি যত বড়ই হোক, প্রস্তুতি থাকলে ক্ষতি কমানো যায়। এখন শুধু প্রয়োজন—সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ।
ভূমিকম্প ঝুঁকি বাড়ছে—তাই প্রস্তুতিও বাড়াতে হবে। বিশেষজ্ঞদের এমন সতর্কবার্তা সবাইকে আরও সচেতন করে তুলবে—এমনটাই প্রত্যাশা। তথ্যসুত্র-৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ