ইউরোপের দেশ ইতালি আগামী তিন বছরে (২০২৬–২০২৮) শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে কমপক্ষে ৫ লাখ নতুন বিদেশি কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের শ্রমিকদের মধ্য থেকেই এসব কর্মী নেওয়া হবে, যেখানে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও সুযোগ রয়েছে।
শুক্রবার ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনসা-র বরাতে তথ্য নিশ্চিত করেছে অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্ট।
গত বুধবার ইতালির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ‘১৪৬ নম্বর সরকাটি চলতিরি’ নামে পরিচিত নতুন অভিবাসন ডিক্রি অনুমোদন দেওয়া হয়। গত অক্টোবর মাসে উত্থাপিত এই ডিক্রিটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
ডিক্রি অনুযায়ী— ২০২৬ সালে নিয়োগ হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ কর্মী, ২০২৮ সালের মধ্যে মোট নিয়োগ সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন।
ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের বিদেশি নিয়োগ-উদ্যোগ এটি। এর আগেই দেশটি ঘোষণা করেছিল—২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইতালি সাড়ে ৪ লাখেরও বেশি কর্মীকে ওয়ার্ক পারমিট দেবে।
বুধবারের ভোটে—১৩১ জন সদস্য পক্ষে, ৭৫ জন বিপক্ষে, ৭ জন ভোটে অংশ নেননি। নতুন আইনে বিদেশি কর্মীদের আগমন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি সময়সীমা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক হলো— আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই কর্তৃপক্ষকে ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। উৎস দেশগুলোতে (যেমন বাংলাদেশ) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
নির্ধারিত কোটার বাইরে আরও অন্তত ১০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে— প্রবীণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, ছয় বছরের নিচের শিশুদের সেবায়।
এ ধরনের ব্যক্তিদের আবাসিক অনুমতির মেয়াদ ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১ বছর করা হয়েছে।
জোট সরকারের শরিক লিগ পার্টির প্রস্তাবে— পারিবারিক পুনর্মিলনের অনুমতির সিদ্ধান্তের সময়সীমা ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫০ দিন করা হয়েছে। আর্থিক বা সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ম লঙ্ঘন হলে বসবাসের অনুমতি বাতিল করা যাবে।
এ ছাড়া, পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে সামাজিক সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিরাও ‘ইনক্লুশন চেক’ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইতালির শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমঘাটতি চলছে। কম জন্মহার এবং বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটিকে ব্যাপকভাবে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা- কৃষি, হোম কেয়ার বা কেয়ারগিভার, নির্মাণ, শিল্প, রেস্টুরেন্ট ও হোটেল সেক্টর।
এ সবকটি সেক্টরেই বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা থাকায় সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ ভালো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্ট