দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, “আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। তাদের চরিত্র গঠনে পরিবার ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ভালো ফল নয়—মানসিকভাবে সুস্থ ও দায়িত্বশীল তরুণ গড়ে তুলতে ইতিবাচক অভিভাবকত্বের কোনো বিকল্প নেই।”
ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘প্যারেন্টিং কনফারেন্স–২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার সকালে নগরীর টাউন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন শতাধিক অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ।
এবারের কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “শিশুর বিকাশে অভিভাবক–শিক্ষক অংশীদারিত্ব”। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ, ইতিবাচক শেখার পরিবেশ তৈরি, আধুনিক প্যারেন্টিং–এর চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা, পরিবারে যোগাযোগের গুরুত্ব এবং চরিত্র গঠনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আলোচনা নিয়মিত করা হলে অভিভাবকরা শিশুদের আরও কাছ থেকে বোঝার সুযোগ পাবেন।
কনফারেন্সের প্রধান আলোচক আন্তর্জাতিক লেখক ও গবেষক ড. আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, “আধুনিক প্যারেন্টিং আগের তুলনায় অনেক জটিল। প্রযুক্তি ব্যবহার, চাপ সামলানো, শেখার পদ্ধতি—সবকিছুতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। সন্তান ভুল করলে তিরস্কার নয়, বরং তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ আচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল পিস ফাউন্ডেশনের মেম্বার সেক্রেটারি আলমগীর মোহাম্মদ ইউসুফ, আর অনুষ্ঠানটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান ও প্রিন্সিপাল প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. আবুয়াল ইসলাম। তিনি বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি সঠিক অভিভাবকত্বই শিশুর সাফল্যের ভিত্তি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কনফারেন্স নিয়মিত আয়োজন করা হবে।”
টাউন হলের পুরো পরিবেশ ছিল প্রাণবন্ত। অভিভাবকরা জানান, কনফারেন্সটি তাদের শিশুকে বোঝা, তাকে সময় দেওয়া এবং ইতিবাচকভাবে বড় করে তোলার বিষয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।