মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

ভোগান্তির নগরী রংপুর: ফাইলবন্দি ১,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প, ভাঙাচোরা রাস্তায় দুর্ঘটনা–দুর্বিষহ জীবন

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুর সিটি করপোরেশনের সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ উন্নয়নসহ ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে। অর্থ ছাড় না হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে সব উন্নয়ন কার্যক্রম। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শহীদ আবু সাঈদ রংপুরকে দেশের ‘এক নম্বর জেলা’ বানানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই বলে অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের।

রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০২১ সালে রাস্তা বর্ধিতকরণ, সংস্কার, ব্রিজ নির্মাণ ও ড্রেনেজ উন্নয়নসহ ১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনার সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন করেনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও নতুন সরকারও এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি পাস করেনি।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের চিঠিতে জানানো হয়—বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন নেই। এরপর থেকেই ফাইলটি আটকে আছে।

রংপুর সিটিতে সড়কপথ আছে ১,৪৫৬ কিমি—তার মধ্যে ৯৫৩ কিমি পাকা। এই পাকা রাস্তারই ৩০০ কিমি ভাঙাচোরা, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সড়কই অচল।

জাহাজ কোম্পানি মোড়–সাতমাথা, সার্কিট হাউস, বাংলাদেশ ব্যাংক–বুড়িরহাট, মেডিকেল–মডার্ন মোড়সহ পুরো শহরের পথজুড়ে— বড় বড় গর্ত, পিচ-খোয়া উঠে যাওয়া, সড়কে পানি জমে খাল তৈরি, সামান্য বৃষ্টিতে অচলাবস্থা

নগরবাসী জানান, প্রতিদিন রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল উল্টে যাচ্ছে। বর্ষায় ডুবে থাকা গর্তে পড়ে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও চোখের রোগ।

জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় রিকশাচালক নুরুল হক বলেন, “প্রতিদিন কোনো না কোনো গাড়ি উল্টে থাকে। রাস্তায় রিকশার চাকা ভেঙে যায়। সড়কটা সংস্কার করা খুবই জরুরি।”

ব্যবসায়ী শামছুল মিয়া বলেন, “হেঁটে যাওয়ার মতোও রাস্তা নেই। মোটরসাইকেল উল্টে হাত-পা ভেঙে যাচ্ছে।”

কলেজছাত্রী মাসুমা আক্তার বলেন, “রংপুর বিভাগীয় শহর—এটা রাস্তাঘাট দেখে বোঝার উপায় নেই।”

গুরুত্বপূর্ণ বুড়িরহাট–কালীগঞ্জ রুটে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চলাচল করেন। তাজিদুল ইসলাম বলেন— “গাড়ির বিয়ারিংসহ যন্ত্রাংশ বারবার নষ্ট হয়। উন্নয়নের নামে রংপুরকে বারবার পিছিয়ে রাখা হচ্ছে।”

রসিকের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, “১,৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প রিভিশনসহ পাঠানো হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্প ঝুলে গেছে। এখনো অনুমোদন হয়নি।”

রসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজম আলী জানান— প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে, একনেকে অনুমোদন পেলেই উন্নয়ন সম্ভব, ততদিন ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো অস্থায়ীভাবে মেরামত করা হচ্ছে

সুজন রংপুরের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন— “১৬ মাসে রংপুরের উন্নয়নে এই সরকার কিছুই করেনি। প্রতিশ্রুতি নয়—ন্যায্য বরাদ্দ চাই। রংপুরকে বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে হবে।” খবর-ঢাকাপোস্ট

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com