রংপুর সিটি বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কের জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করায় নগরবাসীর মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহনকে দুর্গন্ধময় আবর্জনার পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে শুধু ভোগান্তিই নয়, জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি সিটি বাজারের পাশের সড়কে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে জায়গা ফাঁকা করা হয়। এরপর ওই স্থানে প্রায় সাত থেকে নয় ফুট গভীর গর্ত করে অস্থায়ী বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। সড়কটি শহরের অন্যতম ব্যস্ততম হওয়ায় এতে যান চলাচলে গুরুতর ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, সিটি বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই টন বর্জ্য তৈরি হয়। সাবেক কাউন্সিলর লিটন পারভেজ জানান, বাজারের বর্জ্য রাখার জন্য মুরগিহাটি এলাকার সাইকেল স্ট্যান্ডের পাশে নতুন স্থানের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অজ্ঞাত কারণে তা আর চালু হয়নি।
সিটি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—বাজারের অভ্যন্তরে মুরগিহাটি সাইকেল স্ট্যান্ডের কাছে বড় ডাস্টবিন তৈরি করা হবে। এতে সড়কে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, মহাসড়কসংলগ্ন এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ সওজের দায়িত্ব। বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এমএ মজিদ বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন। তবে প্রয়োজন হলে পুলিশ সহযোগিতা প্রদান করবে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এই অস্থায়ী বর্জ্য ডাম্পিং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টির দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার করা হবে, এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।