রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও রেহানার কন্যা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ সোমবার দুপুরে রায় ঘোষণা করে।
রায়ে শেখ রেহানাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড, শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনজনকেই ১ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও রাজউকের সাবেক কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জনকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেও পৃথক করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের সময় খুরশীদ আলম নামে একজন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৃত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে। বরাদ্দ পেতে তারা নিজেদের ‘অস্বচ্ছল’ হিসেবে দেখিয়ে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি ব্রিটেনে দায়িত্ব পালনের সময় তার মা ও ভাইবোনের নামে প্লট বরাদ্দের জন্য শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব বিস্তার করেন।
এই রায়কে দেশে উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগের বড় নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়; বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জনগণের বিশ্বাস নষ্ট হয়।
এর আগে একাধিক প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড ও তার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজকের রায়ে নতুন করে সাজা পেলেন শেখ রেহানা ও তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।