রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পাঠক শিকড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অমান্য করে ব্যাকডেট ব্যবহার করে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, অক্টোবরের শেষদিকে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরপর মাইকিং, মনোনয়নপত্র বিক্রি এবং নির্বাচন প্রস্তুতিও শুরু করা হয়। কিন্তু ১৫ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সকল কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। রিট পিটিশন চলমান থাকায় প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়—স্থগিতাদেশ চলাকালে কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন কমিটি গঠন করতে পারবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ, সেসব স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন ব্যাকডেট ব্যবহার করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রস্তাবটি বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন কোনো কমিটি অনুমোদনের সুযোগ নেই—ব্যাকডেট হোক বা বর্তমান তারিখ।”
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় চারজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকের অনাপত্তিপত্র সংগ্রহে চাপ প্রয়োগ করা হয়। তারা অস্বীকৃতি জানালে একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বাকিদের স্বাক্ষর জাল করে ‘অনাপত্তি’ দেখানো হয়।
চারজন শিক্ষক বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়টিতে প্রায় দুই দশক ধরে ‘পকেট কমিটি’ ও প্রশাসনিক অনিয়ম চলে আসছে। তারা মনে করেন, সরকারি আদেশ স্থগিত থাকা অবস্থায় তফসিল ঘোষণা, মাইকিং এবং ব্যাকডেটে কমিটি প্রস্তাব পাঠানো ইচ্ছাকৃত ও অবৈধ।
একজন অভিভাবক রেজাউল করিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি আদেশ স্থগিত হওয়ার পরও পুরোনো তারিখ দেখিয়ে কমিটি করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত অনিয়ম ছাড়া কিছু নয়।”
এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি প্রয়োজন।