বাংলাদেশ ক্রিকেটের পোস্টার বয়, সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রহস্য। বিসিবি নির্বাচনের আগে যে তামিমকে দেশব্যাপী সংগঠনগুলোর অধিকার আদায়ের ফ্রন্টলাইনে দেখা গেছে, সেই তামিম নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যেন সম্পূর্ণ নীরব। বিদ্রোহী ৪৪টি ক্লাব লিগ বয়কটের ঘোষণা দিলেও তাদের সাম্প্রতিক কোনো কর্মসূচিতে দেখা মেলেনি দেশসেরা ওপেনারের।
এমন অনুপস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে ক্রিকেটাঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন— তামিম ইকবাল কোথায়? কেন তিনি চুপ?
মঙ্গলবার রাজধানীতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বয়কটের সিদ্ধান্ত পুনরায় জানায় বিদ্রোহী ক্লাবগুলো। সেখানেও তামিমের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান রহস্য উস্কে দেন আরও।
তার মন্তব্য— “তামিম দুই দিকেই আছে।”
এই বক্তব্যের পর জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়— তাহলে কি তামিম বিদ্রোহী ক্লাবগুলোর পাশে নেই? নাকি বিসিবির সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছেছেন?
মাসুদুজ্জামানের আরও দাবি— “তামিম এখনো অবসর নেয়নি। সে আমাদের সঙ্গেও আছে, আবার খেলোয়াড়দের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।”
এ বক্তব্য অনেকের কাছে ইঙ্গিতবহ— তামিম হয়তো নিজের ক্যারিয়ার, বোর্ড–সম্পর্ক এবং বয়কট রাজনীতি—এই তিন ধাপের মাঝে সমঝোতার জায়গা খুঁজছেন।
এদিকে গুঞ্জন, ১১ ডিসেম্বর থেকে কোয়াবের নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা লিগে অংশ নিতে পারে। ২৯ নভেম্বর বিসিবি পরিচালকদের সঙ্গে কোয়াবের চা-চক্রে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি insidersদের।
কিন্তু ক্লাবগুলো বলছে— তারা বর্তমান বোর্ডের অধীনে কোনো লিগ খেলবে না। ফলে মাঠের বাইরে এখন বোর্ড–কোয়াব–ক্লাব—এই তিন পক্ষ তিন ভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়ে।
আবাহনীর পরিচালক শেখ বশির আল মামুন বলেন— “খেলা আমরা করাই। বোর্ড চাইলে হবে না—আমরা চাইলে হবে। আমরাই খেলোয়াড় তৈরি করি।”
এই বক্তব্য সরাসরি বিসিবির ক্ষমতাকেন্দ্রিক গড়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।