হজ্জ্বে যাওয়ার আগে অনেকেই নিজের সম্পদ সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দিতে চান। এটি শরিয়তসম্মত কি না—এ নিয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেক মুসলিম। কুরআন-হাদিসে এই বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা রয়েছে।
হজ্জ্ব ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। জীবনে একবার সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর তা ফরজ। অনেকে হজ্জ্বে যাওয়ার আগে নিজের মৃত্যুর আশঙ্কায় সম্পদ সন্তান-সন্ততি বা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আগেই বণ্টন করে দেয়ার বিষয়ে চিন্তা করেন।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী— জীবিত অবস্থায় নিজের সম্পত্তি ইচ্ছামতো কাউকে দিতে বা বণ্টন করে দিতে মালিক সম্পূর্ণ স্বাধীন।
এটি “হিবা” (উপহার) হিসেবে গণ্য হয়। তবে এখানে কিছু শর্ত মানা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা বলেন— “তোমরা পরস্পরের সম্পদ হকভিত্তিক লেনদেন ব্যতীত অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।” (সূরা নিসা, ৪:২৯) অর্থাৎ, জীবিত অবস্থায় ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পদ কাউকে দেওয়া বৈধ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“জীবদ্দশায় তোমাদের সম্পদ তোমাদেরই।” (হাদিস, তিরমিজি) এছাড়া তিনি জীবিত অবস্থায় সন্তানদের মাঝে সমানভাবে উপহার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
সন্তানদের মধ্যে কারো প্রতি পক্ষপাত দেখানো ইসলামসম্মত নয়। ছেলে–মেয়ের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে।
জীবিত অবস্থায় সম্পদ বণ্টন করলে তা হিবা হবে, মীরাস নয়।
তাই সম্পত্তি বণ্টনের নিয়ম মীরাসের মত বাধ্যতামূলক না হলেও ইসলামের ন্যায়বিচারের নীতি বজায় রাখতে হয়।
ভবিষ্যতে পরিবারে জটিলতা এড়াতে হিবা বা সম্পদ দান লিখিত রাখা উত্তম।
মুখে বলে দিলেই হবে না; বাস্তবে সম্পত্তির দখল বা মালিকানা হস্তান্তর হওয়া জরুরি।
হজ্জ্বের আগে সম্পদ বণ্টন জায়েয ও বৈধ, তবে এতে যেন অন্যায়, পক্ষপাত বা ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হয়—এটি ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশ করেছে।