পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে তীব্র গুলিবিনিময় হয়। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে উভয় পক্ষ। তবে এখনো কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেন, পাকিস্তান প্রথমে কান্দাহার প্রদেশের বোলদাক এলাকায় হামলা চালায়। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করছে, আফগান বাহিনীই প্রথমে চামান সীমান্তে ‘বিনা উস্কানিতে’ গুলি ছুড়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক বিবৃতিতে বলেন, “পাকিস্তান সম্পূর্ণ সতর্ক আছে। দেশের ভৌগলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুই দিন আগে সৌদি আরবে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে শান্তি আলোচনা হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বৈঠকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার দুদিন না যেতেই সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
২০২১ সালে মার্কিন ও পশ্চিমা সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকেই পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত অক্টোবরে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘর্ষ ঘটে, যেখানে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়। পরে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুদিন শান্ত ছিল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানে একাধিক আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামাবাদ এ হামলায় আফগান নাগরিকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও কাবুল তা অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স