রংপুরের তারাগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন—মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) এবং তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০)।
রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহে মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকেন। প্রধান দরজার চাবি নিয়ে ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান—ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে সুর্বণা রায়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, তিনি প্রতিদিন সকালে ওই বাড়িতে কাজ করতে যান। কিন্তু রোববার সকাল পর্যন্ত কেউ বাইরে না আসায় সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে পান।
স্থানীয়রা জানান, যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন এবং ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে—একজন জয়পুরহাটে, অন্যজন ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন। দম্পতি বাড়িতে একাই থাকতেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার উপস্থিত হন।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না করলে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
তারাগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু ছাইয়ুম জানান, মাথায় আঘাত করে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।