বেসরকারি স্কুল ও কলেজের প্রধানদের জন্য সপ্তাহে ন্যূনতম ক্লাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫’-এ এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী— প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষকে সপ্তাহে অন্তত ৫টি ক্লাস নিতে হবে। উপাধ্যক্ষ বা সহকারী প্রধান শিক্ষককে সপ্তাহে ন্যূনতম ৮টি ক্লাস নিতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষককে নিজ বিষয়ের পাশাপাশি আরও দুইটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকরা প্রয়োজনে নিম্ন শ্রেণির ক্লাসও নেবেন। সহপাঠ্যক্রমিক বিষয়ে প্রতিটি শিক্ষককে কমপক্ষে একটি বিষয় দায়িত্ব হিসেবে পালন করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকরা নিজ বিষয়ের বাইরে অন্যান্য বিষয়েও পাঠদান করবেন। ক্লাস সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চাহিদার ওপর।
নীতিমালায় জ্যেষ্ঠ প্রভাষক (Senior Lecturer) পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের যোগ্যতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৩ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে কোনো শিক্ষক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে পারবেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে ২–৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের সুযোগ থাকবে।
বিনা অনুমতিতে ৬০ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এমপিও বিবেচনা থেকে বাদ পড়বেন। ৬০ দিন অতিক্রান্ত হলে ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কলেজ পর্যায়ে নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে— মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: কমপক্ষে ৩৫ জন শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান বিভাগ: কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী, মফস্বল এলাকায়— মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা: ৩০ জন, বিজ্ঞান: ২০ জন শিক্ষার্থী থাকলে নতুন শাখা খোলা যাবে।