আরএনবি ডেস্ক:
খুলনা–১ (দাকোপ–বটিয়াঘাটা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে ঘিরে কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শেয়ার হওয়া ছবিগুলোর একটি—ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা শিপন কুমার বসুর সঙ্গে মদপানরত অবস্থার বলে দাবি করা—সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দের সঙ্গে তোলা ছবিগুলো ঘিরেও নানা প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন মহল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের জবাব দেন কৃষ্ণ নন্দী। তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ছবি তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণ নন্দী বলেন,
“আমি হিন্দু হয়েও জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ায় আমাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। শিপন কুমার বসু আমাকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন। মিথ্যা ছবি ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করছেন।”
তিনি আরও বলেন, ওই বিতর্কিত নেতার সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা নেই; বরং বিদেশে অবস্থানরত শিপন বসুই তাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য যোগাযোগ করেছিলেন।
“তার বাসায় যাওয়ার পরে এভাবে ব্ল্যাকমেইল করবে বুঝতে পারিনি,” জানান তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কৃষ্ণ নন্দী বলেন,
“সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। ব্যবসার কারণে যোগাযোগ হয়েছে। তিনি মন্ত্রী, আমি ব্যবসায়ী—ফুল দিতেই পারি।”
তিনি আরও দাবি করেন, মন্ত্রী থাকার সময় তাঁর জামায়াত সংশ্লিষ্টতার কারণে তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।
কৃষ্ণ নন্দীর অভিযোগ, তাঁর জনপ্রিয়তা ও মনোনয়ন পাওয়ার কারণে একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে সমন্বিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।
“এআই–চালিত ভুয়া ছবি ছড়িয়ে আমার ইমেজ নষ্টের চেষ্টা চলছে। দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি,” বলেন তিনি।
ডুমুরিয়ার চুকনগর এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী ২০০৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। গত বছর তিনি দলটির ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি হন।
৩১ অক্টোবর জামায়াতের হিন্দু সমাবেশে তাঁর নেতৃত্বে বড় জমায়েত হওয়ার পর থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন বাড়তে থাকে।
গত ১ ডিসেম্বর খুলনায় বিভাগীয় সম্মেলন শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁকে খুলনা–১ আসনে দলের প্রার্থী ঘোষণা করেন।কৃষ্ণ নন্দী বলেন,“আমাকে প্রার্থী করায় হিন্দুদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এতে প্রমাণিত হয়েছে জামায়াত অসাম্প্রদায়িক দল।”দলের আগের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ তাঁকে সমর্থন করেছেন বলেও জানান তিনি।
গত ৫ আগস্ট তাঁর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান কৃষ্ণ নন্দী।
“দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেব,” বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণ নন্দী দাবি করেন,
“দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে হিন্দু–মুসলমান সবার কাছ থেকেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে দাকোপ–বটিয়াঘাটার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করব।”