আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য — “আমাদের কন্যারা, আমাদের ভবিষ্যৎ: সমতায় গড়ব নিরাপদ পৃথিবী”। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্য হলো সমাজে কন্যা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালে প্রতি বছরের ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর পর থেকে বিশ্বব্যাপী সরকার, সংস্থা ও নাগরিক সমাজ কন্যাশিশুর উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে আসছে।
বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা আলোচনা সভা, র্যালি, পোস্টার প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “কন্যাশিশুর অধিকার” বিষয়ক রচনা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হলে পরিবার ও সমাজ উভয়ের মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিটি কন্যা যেন ভয়হীনভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন, শিক্ষায় বৈষম্য ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা এখনো কন্যাশিশুর প্রধান বাধা। এসব দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি পাঁচজন মেয়েশিশুর মধ্যে একজন এখনো মাধ্যমিকের আগেই পড়ালেখা ছেড়ে দেয়। এছাড়া গ্রামীণ অঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার ৫১ শতাংশেরও বেশি, যা কন্যাশিশুর ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহ বেড়েছে বাংলাদেশে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন মানে শুধুমাত্র শিক্ষার সুযোগ নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র মিলে কন্যাদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে।
আজ আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস 🌸
প্রতিটি কন্যা যেন নিরাপদ ও সমান সুযোগে বেড়ে উঠতে পারে — এটাই এই দিবসের অঙ্গীকার।
#InternationalGirlChildDay #কন্যাশিশু #RNBNews24 #GirlPower #BangladeshNews