আরএনবি ডেস্কঃ গত বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলেও একই সময়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে ভারতের অবস্থান ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই দ্বৈত নীতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার–ব্যাটার রশিদ লতিফ। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ওই সময় আন্দোলনে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় একটি ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়। এসব ঘটনার জেরে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কেও চরম টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে ভারতের কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রতিবাদে নামে। তারা অভিযোগ তোলে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চলছে। এই ইস্যুকে সামনে রেখে তারা আসন্ন আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে। এমনকি মাঠে নামালে ভাঙচুর চালানোর হুমকিও দেওয়া হয়। এর প্রভাব পড়ে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স–এ। গত মাসে নিলামে বাংলাদেশি বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান–কে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন ক্লাবটির মালিক শাহরুখ খান। তাঁকে লক্ষ্য করে দেশদ্রোহিতার অভিযোগও তোলা হয়। প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত বিসিসিআই কলকাতাকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। অথচ একই সময়ে শেখ হাসিনা ভারতে নিরাপদে অবস্থান করছেন—এই বাস্তবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ লতিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, বিসিসিআইর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েছে। তাঁর মতে, এটি বিস্ময়কর যে ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে পারলেও একজন ক্রিকেটারকে আইপিএলে খেলতে দিতে পারছে না। রশিদ লতিফ আরও মন্তব্য করেন, এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হয়তো ভারতে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নাও হতে পারে, কারণ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখনো ভারতে অবস্থান করলেও একজন ক্রিকেটার সেখানে খেলতে পারছেন না—এটাই সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা।