শীতের ঠান্ডা, ধুলাবালি কিংবা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হয়ে গেলে দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ঠিকভাবে শ্বাস নিতে না পারা, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত কিংবা কাজের সময় মনোযোগ হারিয়ে ফেলা—এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই।
তবে চিন্তার কিছু নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত কিছু ঘরোয়া ও সহজ পদ্ধতি নিয়ম মেনে অনুসরণ করলে নাক বন্ধের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের কয়েকটি উপায় দ্রুত আরাম দিতে পারে।
গরম পানির ভাপ নিলে নাকের ভেতরের জমাট মিউকাস নরম হয় এবং শ্বাস নিতে সহজ হয়। গরম পানিতে গোসল করলেও একই উপকার পাওয়া যায়। প্রয়োজনে নাক ও কপালে গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে মিউকাস ঘন হয়ে যায়, ফলে নাক আরও বেশি বন্ধ লাগে। পর্যাপ্ত পানি, গরম চা কিংবা স্যুপ পান করলে মিউকাস পাতলা হয় এবং নাকের অস্বস্তি কমে।
নাকের স্প্রে বা ডিকনজেস্ট্যান্ট ওষুধ দ্রুত স্বস্তি দিলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণত ৩–৫ দিনের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সমতল হয়ে শুলে নাক বন্ধের অনুভূতি বাড়তে পারে। একটি অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করে মাথা সামান্য উঁচু রাখলে মিউকাস সহজে নেমে আসে এবং রাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা নাক খোলা রাখতে সহায়ক হতে পারে।
নাক বন্ধ হওয়া খুবই বিরক্তিকর সমস্যা হলেও কিছু সাধারণ অভ্যাস ও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা, জ্বর, মাথাব্যথা বা অন্য জটিল উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।