আরএনবি ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে চারটি কেন্দ্রের গণনা শেষে ভিপি, জিএস ও এজিএস—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে শিবির প্রার্থীরা অগ্রগতি দেখিয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে জকসু নির্বাচন কমিশন এসব কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের একেএম রাকিবের প্রাপ্ত ভোট ৩৯৪। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবিরের আব্দুল আলিম আরিফ ৩৮৫ ভোট নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২০৫ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ৪০৫ ভোট, আর ছাত্রদলের বিএম আতিকুর রহমান তানজিলের ভোট সংখ্যা ৩২১।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১০০ ভোট, একেএম রাকিব পেয়েছেন ৯১ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৯০ ভোট, খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৪৫ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা ৯৮ এবং তানজিল ৪৫ ভোট অর্জন করেন।নৃবিজ্ঞান বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১২৮ ভোট, ছাত্রদলের প্রার্থী পেয়েছেন ১১৮ ভোট। জিএস পদে শিবির প্রার্থী ১২৩ এবং ছাত্রদলের প্রার্থী ৭৩ ভোট পান। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ১০২ ভোট, তবে এই বিভাগে ছাত্রদলের প্রার্থী ১২৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।লোক প্রশাসন বিভাগে ভিপি পদে ছাত্রদলের প্রার্থী ১৩২ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও শিবিরের প্রার্থী পেয়েছেন ১২২ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ১২৩ ভোট এবং খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৬২ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৩০ এবং তানজিল পেয়েছেন ১০৬ ভোট।ফার্মেসি বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ ভোট, একেএম রাকিব পেয়েছেন ৫৩ ভোট। জিএস পদে শিবির প্রার্থী পেয়েছেন ৮৩ এবং ছাত্রদলের প্রার্থী পেয়েছেন ২৬ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা ৭৮ এবং তানজিল ৪৫ ভোট পান।এর আগে রাত ১টার দিকে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জানান, একটি কেন্দ্রের প্রায় ৩০০ ভোট প্রথমে হাতে গণনা করা হয়। পরে একই ভোট দুটি ওএমআর মেশিনে পুনরায় গণনা করা হয়। যে মেশিনের ফল ম্যানুয়াল গণনার সঙ্গে মিলেছে, সেটি দিয়েই পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮টি ভোট দিয়ে নতুন করে গণনা শুরু হয়।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোট গণনার সময় ওএমআর মেশিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ত্রুটি সমাধানের পর দীর্ঘ বিরতির শেষে পুনরায় ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন।মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায় এবং সেসব ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।