আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী তার প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করেছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বিভাগ তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান।এর মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের আর কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা রইল না।
ডোমার উপজেলার ডালিয়া নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, মনোনয়ন বাতিলের পর আমরা ভীষণভাবে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, এবারও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি হবে না। এখন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোট দেওয়ার আগ্রহ নতুন করে তৈরি হয়েছে।
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি এলাকার ভোটার রওশন আরা বেগম বলেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আমাদের এলাকায় পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ। তিনি নির্বাচনে থাকলে সাধারণ মানুষের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী জুলহাস জানান, মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর অনেক নেতাকর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। এখন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় সবাই আবার মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে।
জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক রইছুল আলম চৌধুরী বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকায় সামান্য অসংগতির অভিযোগ তুলে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে ইসির আপিল বিভাগ মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের প্রতিফলন।
ডিমলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোনয়ন হোসেন বলেন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। সে সময় ভোট কারচুপির মাধ্যমে তার বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সরাসরি সমর্থন পেলে তিনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, নীলফামারী-১ আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে বরাবরই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় এবারের নির্বাচনে এই আসনে নতুন গতি ও মাত্রা যুক্ত হয়েছে।