সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুতে বেশ চাপেই পড়ে যায় সিলেট টাইটান্স। রংপুর রাইডার্সের আঁটসাঁট বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় দলটি। তবে স্যাম বিলিংস ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দৃঢ় জুটিতে ম্যাচে ফেরে সিলেট। এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর আবারও উত্তেজনা ছড়ায় ম্যাচে, জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যায় রংপুর। শেষ ওভারের শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৬ রান—এমন সমীকরণে ফাহিম আশরাফের বলে দুর্দান্ত ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেটকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। এই জয়ের মাধ্যমে রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করে সিলেট টাইটান্স।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রান সংগ্রহ করে রংপুর রাইডার্স। জবাবে ৩ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সিলেট।
১১১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা মোটেও স্বস্তির ছিল না সিলেটের জন্য। রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম দিকে চাপে পড়ে যায় তারা। তবে স্যাম বিলিংস ও মেহেদী হাসান মিরাজ পরিস্থিতি সামাল দেন। এই জুটির ৫০ রানের অবদানেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় সিলেট। দুজনের বিদায়ের পর ম্যাচে আবার অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ক্রিস ওকসের সাহসী ব্যাটিং শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দেয়।
সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন স্যাম বিলিংস। ১৮ রান করে করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমন। এছাড়া আরিফুল ইসলাম ১৭, মঈন আলি ৫, আফিফ হোসেন ৩ ও তাওফিক খান ২ রান যোগ করেন। ক্রিস ওকস ১০ ও খালেদ আহমেদ ১ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ব্যাট করতে নেমে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে সিলেট। দলীয় ২৯ রানের মধ্যে ডেভিড মালান (৪), তাওহীদ হৃদয় (৪), লিটন দাস (১) ও কাইল মেয়ার্স (৮) সাজঘরে ফেরেন।
পঞ্চম উইকেটে খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের জুটিতে আসে ৩৪ রান। খুশদিল ১৯ বলে ৩০ রান করে আউট হন এবং মাহমুদউল্লাহ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান করেন ২৪ বলে ১৮ রান। ফাহিম আশরাফ ৩, আলিস আল ইসলাম ৪, মুস্তাফিজুর রহমান ১ ও নাহিদ রানা ২ রান করেন।
সিলেটের বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন খালেদ আহমেদ, তিনি নেন ৪ উইকেট। এছাড়া ক্রিস ওকস ও নাসুম আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট।