আরএনবি ডেস্কঃ আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের এক দিন আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতে গিয়ে না খেলার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানকে সেই চিঠিতে সমর্থন জানিয়েছে পিসিবি। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ইএসপিএনক্রিকইনফো। জানা গেছে, পিসিবির পাঠানো চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের কাছেও পৌঁছেছে। এদিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে ধরে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসি বোর্ড সভা ডেকেছে সংস্থাটি। তবে পিসিবির চিঠির প্রতিক্রিয়ায় কি না—তা আইসিসির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে পিসিবির সমর্থন নতুন আলোচনার জন্ম দিলেও, বিশ্বকাপের পূর্বঘোষিত সূচি বদলানো নিয়ে আইসিসির অবস্থান অপরিবর্তিত থাকছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই বিশ্বকাপ হবে এবং বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়া হবে না। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি–বিসিবি বৈঠকেও একই বার্তা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে উভয় পক্ষের একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি—আইসিসি বলছে সূচি অপরিবর্তিত থাকবে, আর বিসিবির দাবি—নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দল পাঠানো যাবে না। টুর্নামেন্ট শুরুর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতে বুধবার ছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্ধারিত দিন। এই অচলাবস্থার মধ্যেই পিসিবির হঠাৎ সম্পৃক্ততা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে গুঞ্জন ছিল—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে পিসিবি। এমনকি আরও জোরালো গুঞ্জন—বাংলাদেশের ইস্যু অনিশ্চিত থাকলে বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়েও ভাবতে পারে পাকিস্তান। তবে এসব বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি পিসিবির পক্ষ থেকে। এই টানাপোড়েনের সূচনা হয়, যখন আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে রাখা নিয়ে আপত্তি তোলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সুনির্দিষ্ট কারণ না জানা গেলেও বাংলাদেশ–ভারত রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি বিষয়টি আলোচনায় আসে। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করে—জাতীয় দল ভারতে গিয়ে কোনো ম্যাচ খেলবে না। পরবর্তীতে বিপিএল চলাকালে খেলোয়াড় বয়কট–সংক্রান্ত বিতর্ক এবং বিসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ‘বিশ্বকাপে না খেললে আর্থিক ক্ষতি’ বিষয়ক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।