আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট রোধে ব্রাজিল থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দুই কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সরকারি সূত্র জানায়, কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেডের কাছ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে এই তেল সংগ্রহ করা হবে। তেলগুলোর উৎপত্তিস্থল ব্রাজিল। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে সব ধরনের ব্যয় যুক্ত করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা। এর আগেও একই উদ্দেশ্যে গত সপ্তাহে থাইল্যান্ড থেকে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়ানো এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ডিপিএম পদ্ধতিতে তেল কেনার জন্য এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেডের কাছে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দরপত্র জমা দিলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) তা যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করে। পরবর্তীতে টিইসির দরকষাকষির মাধ্যমে সুপারিশ অনুযায়ী ৩৫৭ কোটি ৬২ হাজার ১০০ টাকা ব্যয়ে নির্ধারিত পরিমাণ তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত দুই লিটার পেট বোতলে সরবরাহ করা এই তেলের প্রতি লিটার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা। অন্যান্য পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত হয়ে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত প্রতি লিটারের মোট খরচ দাঁড়াবে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা।
এই সয়াবিন তেল খোলাবাজারে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় কম মূল্যে এবং ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হবে। ফলে এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি দিতে হবে না।