বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব আইসিসির বুধবারের সভায় বাতিল হয়ে যাওয়ার পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছিলেন, তিনি চব্বিশ ঘণ্টার সময় চেয়ে নিয়েছেন সরকারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে ক্রিকেটারদের বৈঠক ঘিরে তাই অনেকেরই কৌতূহল ছিল। সেই কৌতূহল মিটে গেছে সভায় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখায়। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ তার আগের অবস্থানে অনড়।
‘আপনাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিই, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত আমাদের সরকারের। কোনো একটি দেশের মানুষ অন্য একটি দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কিনা, সেটি সরকার বিবেচনা করে দেখে; অন্য কারও বিবেচনা করার সুযোগ নেই।’ ১৯৯৯ সালের পর সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৬ বিশ্বকাপের সবকটিতেই খেলেছে বাংলাদেশ। এবার সেই বিশ্বকাপযাত্রায় যাওয়া হচ্ছে না টাইগারদের।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার নিজেদের আগ্রহের কথা খুলে বলেন। সবকিছু শোনার পর উপদেষ্টা বিশ্বকাপ নিয়ে সরকারের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের কথা ক্রিকেটারদের জানিয়ে দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপদেষ্টা বলেছেন, ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় ভারতে দল পাঠাবে না সরকার।’ ক্রিকেটারদের ওপর বাকি সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেন তিনি।
এদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংক্ষিপ্ত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না। কোন প্রেক্ষাপটে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে– খেলোয়াড়দের তা বোঝানোর প্রয়োজন ছিল বলে জানান তিনি। ‘সাক্ষাতের উদ্দেশ্যটা ছিল সরকার কেন এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে, সেটি তাদের ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলা।
আমার কাছে মনে হয়েছে, তারা এটি বুঝতে পেরেছে। এটিই উদ্দেশ্য ছিল, আর কিছুই না। খেলোয়াড়রা কী বলেছে, সেটি বলার অধিকার আমার নেই।’ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, আইসিসি অন্যায় করেছে। ভারতের নাম উল্লেখ না করে বলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একটি দেশকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। সেখানে আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার পরও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেলে বিশ্বকাপ ম্যাচ হচ্ছে। যদিও ২০২১ সালে আইসিসি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্লট বণ্টনের সময় ভারত-শ্রীলঙ্কাকে যৌথভাবে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ঘোষণা করেছিল। আইসিসি শক্ত অবস্থান নেওয়ার পরও বুলবুল শ্রীলঙ্কায় খেলার ব্যাপারে আশাবাদী।
বুধবার আইসিসির সঙ্গে সভা শেষে তিনি ‘মিরাকল’-এর অপেক্ষায় ছিলেন। সেই মিরাকল আইসিসির দিক থেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের। যদিও আরব্য রজনির কাহিনির মতো দুবাইয়ে অবস্থিত আইসিসি কার্যালয় থেকে বিশ্বকাপ নিয়ে অলৌকিক কোনো বার্তা বুলবুলকে পাঠায়নি।