নিজস্ব উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর ওপর একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব করেছে লালমনিরহাট জেলা যুবদল। এই মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হয়েছেন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ। উদ্যোগটির জন্য এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের টাংরির বাজার এলাকায় সতী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ভিপি আনিছ ও সদস্য সচিব হাসান আলী। প্রায় এক মাসের স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশ, কাঠ ও সিমেন্টের পিলার ব্যবহার করে প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারে এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা। অনেক সময় নদীর ওপর আড়াআড়ি করে বসানো দুটি বাঁশের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষ পারাপার হতো। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতো শিক্ষার্থীরা, ভিজে যেত বইখাতা। কৃষকরাও ফসল আনা–নেওয়ায় পড়তেন চরম দুর্ভোগে। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় যুবদল সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়।
২৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের এই ভাসমান সেতুটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নকশায় তৈরি। নদীর পানি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও এটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বর্ষাকালে পানি বাড়লে সেতুটি পানির সঙ্গে ভেসে উঠবে এবং কখনো ডুবে যাবে না, ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময়েও এটি নিরাপদ থাকবে।
সেতুটি নির্মাণের ফলে ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। এখন তাদের আর নদী পার হতে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে না। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা বলেন, জনগণের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন যুবদলের মূল অঙ্গীকার। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই সামান্য প্রচেষ্টা যদি এলাকাবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে পারে, তাহলেই তাদের শ্রম সার্থক।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, যুগের পর যুগ নদী পারাপারে আমরা সীমাহীন কষ্টে ছিলাম। কখনো ভাবিনি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। সেতু নির্মাণের জন্য তিনি যুবদলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
কৃষক রহমত আলী জানান, নদীর এক পাশে তার বাড়ি এবং অন্য পাশে জমি। নৌকায় করে ফসল আনা–নেওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। সেতু নির্মাণের ফলে সেই ভোগান্তি দূর হওয়ায় তিনিও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্কুলছাত্রী রেবেকা খাতুন জানায়, আগে দুটি বাঁশের ওপর দিয়ে নদী পার হতে খুব ভয় লাগত। এখন নিরাপদে সেতু দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে বলে সে আনন্দ প্রকাশ করে।
সেতু উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাসান আলী, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক সরকার, সাধারণ সম্পাদক আরঙ্গজেব হোসেন লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।