মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন হলো কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী-সন্তানের

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ জন সংবাদটি দেখেছেন
পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন হলো কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী-সন্তানের

বাগেরহাটে গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও তার নয় মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়ির কবরস্থানে মা ও ছেলের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে রাত ১১টা ২০ মিনিটে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বর্ণালী ছিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী। সাদ্দাম বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা-ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে স্বর্ণালীর বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল সম্পন্ন করার পর বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ নেওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারাফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মানবিক বিবেচনায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাদ্দামের বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই পড়ে ছিল নয় মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ।

এই ঘটনার পর সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, প্যারোলের বিষয়ে আবেদন করলে তা যেহেতু যশোর কারাগার সংশ্লিষ্ট, তাই যশোরের জেলা প্রশাসক বা জেল সুপারের কাছে আবেদন করতে হবে—এ বিষয়টি স্বজনদের বুঝিয়ে বলা হয় এবং যশোর কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।

পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে মা-ছেলের মরদেহ যশোর কারাগারে নিয়ে যান। সব প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশের অনুমতি পায়। কারাফটকে প্রায় পাঁচ মিনিট স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখেন সাদ্দাম।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর পর তারা কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সাদ্দামের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, সাদ্দাম কোনো হত্যা মামলার আসামি নন, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ সময় ছয়জনের বেশি স্বজনকে কারাফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করে বলেন, সাদ্দাম কোনো খুনি নন, রাজনৈতিক মামলায় বন্দি থাকা সত্ত্বেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি সাদ্দামকে দুলাভাই নয়, বড় ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, কারাফটকে মরদেহ আনা হলে মানবিক দিক বিবেচনায় ছয়জন স্বজনকে ভেতরে প্রবেশ করে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। সাধারণত অনুমতি ছাড়া এমন সুযোগ না থাকলেও স্বজনের মৃত্যু হলে বিশেষ বিবেচনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com