একসময় জাতীয় পার্টির (জাপা) নিশ্চিত আধিপত্য থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটে রাজনৈতিক চিত্র বদলে গেছে। জেলার তিনটি আসনেই এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নেমেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। প্রচার–প্রচারণায় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে দুই দলই তৎপর, তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কয়েকটি আসনে সমীকরণ বদলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
পাটগ্রাম–হাতীবান্ধা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। উন্নয়নকেন্দ্রিক প্রচারণা তাঁকে আলোচনায় আনলেও তাঁর মনোনয়নকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি’র ভেতরে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। দলীয় কর্মীদের একাংশের অস্বস্তি ভোট ভাগাভাগির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই ফাঁকটি কাজে লাগাতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, যিনি মানবিক কাজের কারণে এলাকায় পরিচিত।
অন্যদিকে, জাপা থেকে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রংপুর–১ আসনের সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা। তাঁর প্রার্থিতা লড়াইকে ত্রিমুখী করেছে, যা শেষ মুহূর্তে ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
কালীগঞ্জ ও আদিতমারী নিয়ে গঠিত এই আসনের রাজনীতি বহুদিন ধরেই পারিবারিক কাঠামো ঘিরে আবর্তিত। সাতবারের সাবেক সাংসদ মরহুম মজিবর রহমান ছিলেন জাপা ও বিএনপি—উভয় প্ল্যাটফর্মেই জনপ্রিয়।
এবার বিএনপির প্রার্থী জেলা সহসভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল। তবে তাঁর মনোনয়নকে ঘিরে কালীগঞ্জে দলের ভেতর অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর চাচাতো ভাই ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকদের অবস্থান ভোটে ভাঙন ধরাতে পারে।
জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু—দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জনসেবা ও দুর্যোগকালে ত্রাণ সহায়তার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, আসল লড়াই হতে পারে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।
এদিকে, জাপার সাবেক এমপির ছেলে ও জনতার দলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল ভোটে ভাঙন দেখা দিলে সমীকরণে উঠে আসতে পারেন।
লালমনিরহাট সদর নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু শক্ত অবস্থানে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় ভেতরে প্রকাশ্য কোনো বিরোধ নেই। তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত ‘নীরব ভোট’-এর ওপর নির্ভর করতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরব ভোট বিশাল নয়, তবে উপেক্ষা করার মতোও নয়।
জেলায় আরও লড়াইয়ে রয়েছে জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে এই জেলায় এনসিপির কোনো প্রার্থী নেই।
সমগ্র চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—
এই নির্বাচনে জাপার নয়, বরং বিএনপি বনাম জামায়াত—এই দুই পক্ষের শক্তি–মাপার লড়াই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।
স্থানীয়রা মনে করছেন,