হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনারি ধমনিতে চর্বি জমা, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া হৃদ্রোগের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই কম লবণ, কম তেল ও চিনিমুক্ত খাদ্যাভ্যাস হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
তিসি বীজ আঁশ, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও লিগন্যানের উল্লেখযোগ্য উৎস। লিগন্যানের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রক্তনালীর সুরক্ষা বাড়ায়। ওমেগা–৩ ও আঁশ রক্তের খারাপ চর্বি (LDL) কমিয়ে ভালো চর্বি (HDL) বাড়াতে সহায়তা করে। উচ্চ আঁশ ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
হৃদ্বান্ধব খাবারের তালিকায় সবচেয়ে উপকারী হলো পেঁপে, কমলা, আপেল ও বেরি–জাতীয় ফল। এসব ফল পটাশিয়াম, আঁশ, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজির মধ্যে রয়েছে— ব্রকলি, গাজর, পালংশাক, ব্রাসেলস স্প্রাউট, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি, শিম, ফুলকপি ও ঢেঁড়স।
সামুদ্রিক মাছ ও তৈলাক্ত মাছে প্রচুর ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা রক্তের চর্বির ভারসাম্য বজায় রাখে ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। প্রতি ১০০ গ্রাম মাছে ১,০০০ মিলিগ্রামেরও বেশি ওমেগা–৩ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেন।
কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন বাদামে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, আঁশ ও ভিটামিন ই, যা LDL কমিয়ে HDL বাড়াতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ বাদাম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
রসুনের অ্যালিসিন রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে। তাজা রসুনে অ্যালিসিনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। রসুনের সাপ্লিমেন্ট পাওয়া গেলেও বিশেষজ্ঞরা তাজা রসুনকেই বেশি কার্যকর বলে মনে করেন।
হার্ট সুস্থ রাখতে শুধু ভালো খাবার খাওয়া নয়, ক্ষতিকর খাবারও বাদ দেওয়া জরুরি।
নিষিদ্ধ বা কম খাওয়ার তালিকায়—চিনি, গুড়, উচ্চ–শর্করাযুক্ত খাবার, ট্রান্সফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার, ডুবোতেলে ভাজা খাবার,প্রক্রিয়াজাত খাবার,অতিরিক্ত লবণ।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জীবনযাপনের ছোট ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।