একসময় ধু-ধু বালুচরে কোনো ফসল হতো না। সেই তিস্তার চরেই এখন সবুজের সমারোহ। নীলফামারীতে স্যান্ডবার পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন শত শত কৃষক। কম খরচে অধিক লাভের আশায় এবার প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে আবাদ হয়েছে তরমুজ। রমজান সামনে রেখে ভালো দাম পাওয়ার আশা চাষিদের। বিস্তারিত রিপোর্টে।
তিস্তার ধু-ধু বালুচর এখন আর অনাবাদি নয়। সেখানে শোভা পাচ্ছে সবুজ তরমুজ ক্ষেত। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাঘের চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে সেচ, পরিচর্যা আর স্বপ্ন বোনার কাজ।
এ বছর কৃষকরা ব্যবহার করছেন ‘স্যান্ডবার পদ্ধতি’। বালুর গর্তে জৈব সার মিশিয়ে চারা রোপণ করা হয়, যা চরাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।“গত বছর ১২ বিঘায় চাষ করে ভালো লাভ পাইছি। তাই এবার ৭০ বিঘায় আবাদ করছি। আশা করছি ভালো দাম পাব…”
শৈত্যপ্রবাহের কারণে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও এখন গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক। কৃষকরা বলছেন, আগামী সপ্তাহেই প্রথম দফার তরমুজ বাজারে উঠবে। আর দ্বিতীয় দফার তরমুজ পুরো রমজান মাসজুড়ে সরবরাহ করা যাবে। প্রতি বিঘায় ১ থেকে ২ লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
“আমরা স্যান্ডবার পদ্ধতিতে ২৫ জন কৃষকের মাধ্যমে ৩০০ বিঘা জমিতে চাষ করিয়েছি। প্রতি কেজি ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রির সম্ভাবনা আছে। সেচ সমস্যার সমাধানে আমরা পাম্প ও পাইপ বিতরণ করছি…”
বালুচরে তরমুজ চাষ শুধু কৃষকের ভাগ্যই বদলায়নি, সৃষ্টি করেছে স্থানীয় কর্মসংস্থানেরও। সরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে তিস্তার চরে এই বিপ্লব আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।