লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে পরিষদের সব সদস্য চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া ওই অনাস্থা প্রস্তাবে পরিষদের সব সদস্য স্বাক্ষর করেন। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান নিয়ম ও বিধি উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করছেন।
নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সভা ও রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের কথা থাকলেও তিনি তা মানেননি বলে অভিযোগ সদস্যদের। তারা জানান, রেজুলেশন ছাড়াই চেয়ারম্যান উপজেলা কমিটির কাছে প্রকল্প উপস্থাপন করেন এবং নিজেই তা বাস্তবায়ন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ, ভিজিডি কার্ড বণ্টনসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শৈলমারী চরের জহির রায়হান বলেন, “আমাদের স্কুল মাঠে মাটি ভরাটের বরাদ্দ এলেও কাজ হয়নি। চেয়ারম্যান এক ফোঁটা মাটিও ফেলেননি।”
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিউলি বেগম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ভিজিডি কার্ড পরিষদে বিতরণ না করে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে টাকা দাবি করেন। এর প্রতিবাদ করলে তিনি তাকে মারপিট ও অপমান করেন।
শিউলি বেগম বলেন, “একক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় সভা চলাকালে চেয়ারম্যান আমাদের গালমন্দ করে পরিষদ থেকে বের করে দেন। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছি।”
সদস্যরা জানান, চলতি অর্থবছরে টিআর-কাবিখা প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও নিয়মভঙ্গ করেছেন চেয়ারম্যান। সভা আহ্বানের আগেই প্রকল্পের বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য ইউএনও-র কাছে পাঠিয়ে দেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহবুব সরোয়ার বলেন, “সভা হওয়ার আগেই প্রকল্প পাঠানোর বিষয়টি আমার জানা ছিল না। চেয়ারম্যান নিজেই সব করেছেন।”
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বলেন, “উন্নয়ন থেমে থাকলে জনগণের ক্ষতি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। কিছু সদস্য রাজনৈতিক কারণে অনাস্থা এনেছেন।”
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা জানান, “চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”