আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাট জেলায় ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। জেলার মোট ৩৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানায়, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’—এই দু’টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। তবে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। অতীতের সহিংসতার ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্তবর্তী এলাকা, চৌচির যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট বিবেচনায় এনে কেন্দ্রগুলোর গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলার তিনটি আসন হলো— লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম–হাতীবান্ধা), লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ–আদিতমারী), লালমনিরহাট-৩ (সদর)। এই তিন আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১,৪৪,৪৯৫ জন।
পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী—এই চারটি সীমান্তবর্তী উপজেলায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে— সীমান্তে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্টে কড়াকড়ি, অবৈধ অস্ত্র ও অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নজরদারি চলছে। বর্তমানে জেলায় ২২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্বে রয়েছে।
এবার প্রথমবারের মতো প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া— গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ, কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন— “সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে টহল দেওয়া হচ্ছে। যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি।”
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে— নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো শেষ এবং নির্বাচনের দিন সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কাজ করবে
নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে সব ধরনের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।