২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এবার সারাদেশে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. রাশেদুল করিম।
তিনি বলেন, “এই বছরের ফলাফলকে ব্যর্থতা নয়, বরং পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখতে হবে। আমরা মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে যাচ্ছি। তাই শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছে, যার প্রভাব ফলাফলে পড়েছে।”
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, “নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রশ্নপত্রে বিশ্লেষণধর্মী ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনার মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগে যেসব প্রশ্ন মুখস্থ করে উত্তর দেওয়া যেত, এখন তা সম্ভব নয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী প্রস্তুতি নিতে পারেনি।”
তিনি জানান, “এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে, তবে এটা শিক্ষার মান কমেছে — এমন নয়। বরং এখনকার ফলাফল বাস্তব দক্ষতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
এছাড়া মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা, স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নপত্রের মান উন্নত হওয়ায় এবার অনেক বোর্ডে জিপিএ-৫ এ ধস নেমেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২.৭৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সমস্যা সমাধান ও বাস্তব জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুরুতে ফলাফলে প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।