সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে গড়া পাঠাগার—লালমনিরহাটের জামাল এখন জ্ঞানের বাতিঘর

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৩ জন সংবাদটি দেখেছেন

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে জ্ঞানের আলো ছড়ানো এক অনন্য পাঠাগার। আর এই পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ পরিবারের সন্তান—বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জামাল হোসেন। টিফিনের মাত্র ৭৫০ টাকা সঞ্চয় করে শুরু হওয়া তার এই উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে স্থানীয় ছাত্র–ছাত্রী ও বইপ্রেমীদের প্রধান আশ্রয়স্থলে।

২০১৪ সালে মাত্র ১০টি বই দিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার’-এ এখন বইয়ের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। শুধু নিজের গ্রাম নয়, পাশের ইউনিয়ন ও উপজেলার লোকজনও প্রতিদিন ভিড় করেন এই পাঠাগারে।

টিনশেড থেকে তিনতলা ভবনের ভিত্তি—জামালের লড়াই ও সাফল্য

জামাল যখন স্কুলছাত্র, তখনই স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজ গ্রামে পাঠাভ্যাস ছড়িয়ে দেওয়ার। সেই স্বপ্নের পথ ধরে—টিফিনের টাকা জমিয়ে পাঠাগারের ভিত্তি স্থাপন, সামাজিক উদ্যোগে স্থানীয়দের উৎসাহিত করা, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির সমর্থনে পাঠাগার সম্প্রসারণ, শেষ পর্যন্ত বাবা আবদুল ছাত্তারের ৫ শতাংশ জমি দান, এই জমিতেই বর্তমানে তিনতলা ভবনের ভিত্তির ওপর নির্মিত হয়েছে পাঠাগারের নতুন স্থাপনা, যেখানে প্রথম তলার কাজ শেষ।

কেন পাঠাগারটি বিশেষ?

পাঠাগারটি শুধু বইয়ের ঘর নয়—এটি এখন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে রয়েছে—সাহিত্য, ইতিহাস, জীবনী, বিজ্ঞান, ধর্ম, ভ্রমণ, গবেষণা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সমৃদ্ধ বইয়ের সংগ্রহ

এছাড়া নিয়মিত হয়—কবিতা আবৃত্তি, গান শেখানো, সাংস্কৃতিক আসর, যুবদের জন্য নেতৃত্ব ও নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা

কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুনীল কুমার সূত্রধর বলেন—

“পাঠাগার গড়ে তোলায় থেমে থাকেননি জামাল। তিনি পুরো এলাকাকে বই ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার কারণে বহু তরুণ পথ হারানো থেকে ফিরে এসেছে।”

সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতি—১৭টি পুরস্কার

শুধু পাঠাগার নয়, এলাকার প্রবীণদের সেবা, সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষায় উৎসাহ—সব মিলিয়ে জামাল হোসেন ইতোমধ্যে পেয়েছেন—

  • দেশ–বিদেশের ১৭টি পুরস্কার
  • ২০২৫ সালের ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়)

তিনি বলেন—

“বই মানুষকে বদলে দেয়। আমার গ্রামকে বদলাতে চাই বলেই এই পাঠাগার। মানুষকে বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলেই আমার পরিশ্রম সার্থক।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com