ধানের কুড়া থেকেই এখন উৎপাদিত হচ্ছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ভোজ্য তেল। গাইবান্ধায় গড়ে উঠেছে এমনই এক সম্ভাবনাময় কৃষিভিত্তিক শিল্প, যা সাশ্রয়ী দামে তেল দিচ্ছে, তৈরি করছে কর্মসংস্থান।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত “প্রধান রাইচ ব্রান অয়েল মিল”এ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হচ্ছে রাইস ব্রান অয়েল।কারখানার প্রতিটি ধাপে রয়েছে অটোমেশিন, যার মাধ্যমে হাতের স্পর্শ ছাড়াই তেল নিষ্কাশন থেকে বোতলজাত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে
প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন ধানের কুড়া প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন করা হয় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল। পরবর্তীতে রিফাইনিং প্রক্রিয়া শেষে বাজারজাত করা হয় প্রায় ৪০ হাজার লিটার ভোজ্য তেল। প্রতি লিটার তেলের মূল্য প্রায় ১৫০ টাকা, যা অন্যান্য ভোজ্য তেলের তুলনায় সাশ্রয়ী।
উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা জানান, এই তেলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর ভিটামিন-ই। যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তেল নিষ্কাশনের পর অবশিষ্ট কুড়া ফেলে না দিয়ে আলাদা সেকশনে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হচ্ছে মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য। ফলে কাঁচামালের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গড়ে উঠেছে পরিবেশবান্ধব শিল্পব্যবস্থা।
প্রধান রাইচ ব্রান অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী নাজির হোসেন প্রধান বলছেন, ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ ভারতে রপ্তানি করা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় টিসিবির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
যথাযথ প্রচারণা ও বিনিয়োগ সহায়তা পেলে ধানের কুড়া থেকে উৎপাদিত এই ভোজ্য তেল দেশের বাজারে আরও বড় জায়গা করে নিতে পারে। কৃষিভিত্তিক শিল্পের এমন উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে যেমন শক্তিশালী করছে, তেমনি স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্যও হয়ে এক নতুন সম্ভাবনা।